আপনার ফেইসবুক একাউন্ট নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

পার্সোনালি আমি বিশ্বাস করি ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক করা যায় না। হ্যাকিং এর যে মানে আমি জানি তাতে বুঝি একটা ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক করতে পারার মানে আপনি চাইলে যে কারো ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক করতে পারবেন। এদেশে এখনো সেই পরিমান মাথাওয়ালা হ্যাকার আছে বলে দেখিনি।

তারপরেও দেখা যায় মাঝে মাঝে আপনার একাউন্টের নিয়ন্ত্রন চলে যাচ্ছে অন্য কারো হাতে। আপনার পেইজে পাব্লিশ হচ্ছে অহেতুক পোস্ট। কি করে হচ্ছে এসব তাহলে?

বেশিরভাগই সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে করা হচ্ছে এসব। অনেক সময় আপনার অসাবধানতা এবং অহেতুক উদারতার কারনেও হচ্ছে।

আর সবথেকে বেশি হচ্ছে আপনার বোকামির কারনে।

ফেইসবুক আপনাকে একাউন্ট খুলতে দিয়েছে এবং সেই সাথে কিছু গাইডলাইন ও দিয়ে দিয়েছে কিভাবে আপনার একাউন্ট নিরাপদ রাখতে পারবেন।

আসুন আমাদের কমন সেন্স থেকে আগে একাউন্ট নিরাপদ রাখার কিছু জিনিস জেনে নেই। তাহলে অযথা কাউকে বলতে হবে না – ” ভাইয়া আমার একাউন্ট হ্যাক(!) হয়ে গেছে এখন কি করতে পারি?”

কি কি করা যাবে না-

০১। নিজের ইমেইল আইডি বাদে অন্য কারো ইমেইল আইডি দিয়ে ফেইসবুক একাউন্ট খুলবেন না। বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে আরেক জনের ইমেইল আইডি দিয়ে ফেইসবুক একাউন্ট খুলছেন। তখন আপনার একাউন্টের নিয়ন্ত্রন চলে যাচ্ছে যার ইমেইল আইডি দিয়ে একাউন্ত খুলেছেন তার কাছে। চাইলে তিনি আপনার ফেইসবুকের পাসওয়ার্ড এবং ফোন নাম্বার বদলে দিতে পারবেন।

০২। আপনার ফেইসবুকে আরেকজনের ফোন নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করা। এটি কখনো করা যাবে না। সবসময় নিজের ফোন নাম্বার জেটি চালু আছে সেটি ব্যবহার করবেন। পাসওয়ার্ড রিকভারি করতে এই ফোন নাম্বার দরকার হয়। আপনার একাউন্টে যদি আমার কোন ফোন নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করা থাকে তাহলে আমি চাইলে আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলতে পারব।

০৩। বন্ধুর বাসার পিসি, দোকানের পিসি বা অন্যের মোবাইলে ফেইসবুকে লগিন করবেন না। লগিন করলেও লক্ষ রাখুন ব্যবহার শেষে ঠিকমত লগআউট করেছেন কিনা।

০৪। যাকে তাকে নিজের পাসওয়ার্ড বলবেন না। মেসেঞ্জারে, ফোনে বা প্রাইভেট চ্যাটে শেয়ার করবেন না। যদি কোথাও লিখে রাখতে হয় তবে তা সাবধানে রাখুন যেন আপনি বাদে আর কেও তার হদিস না পায়।

একাউন্টের সিকিউরিটি বাড়াবেন কি করে?

উপরের কাজগুলো করবেন আপনার একাউন্টের নিরাপত্তার জন্য। এগুলো সবথেকে জরুরী। এর পরেও ফেইসবুক আপনাকে আরো কিছু সুবিধা দিয়েছে যাতে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও যেন আপনার একাউন্টে লগিন করতে না পারে।

তেমনি একটি হল Two-Factor Authentication.

আপনার একাউন্টের সেটিংস অপশন থেকে সিকিউরিটি এবং লগিন এই অপশনে এ যান। এরপর সেখান থেকে এটি অন করে দিন।

এর ফলে আপনি যখনই লগিন করবেন অপরিচিত বা নতুন কোন ডিভাইস থেকে আপনার মোবাইলে একটা কোড আসবে। কাজেই পাসোয়ার্ড জানা থাকলেও ঐ কোড বাদে লগিন করা যাবে না।

আর যারা মোবাইলে ফেইসবুক এপ চালান তারা সেই এপেই নোটিফিকেশন পাবেন যে আপনি নতুন ডিভাইস থেকে লগিন অথরাইজ করতে চান নাকি।

 

এরপর ফেইসবুকের আরো একটি সুবিধা আছে যেখানে আপনার একাউন্ট লক হয়ে গেলে আপনি বিশ্বস্ত ৩ থেকে ৫ জন বন্ধুর সাহায্য নিতে পারবেন একাউন্ট পুনরায় ফিরে পাবার জন্য।

এটিও আপনি সিকিউরিটি অপশনের একদম প্রথমেই দেখতে পাবেন। তো সিলেক্ট করে ফেলুন আপনার সেই ৩ জন বা ৫ জন বন্ধুকে যারা আপনার হ্যাক হয়ে যাওয়া একাউন্ট ফিরে পেতে আপনাকে সাহায্য করবে।

সিকিউরিটি সেকশনের বাকি অপশনগুলো চেক করে দেখুন, যেটি মনে হয় আপনার কাজে লাগবে অন করে দিন।

অজানা এপস ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন

অনেক সময় মোবাইলে বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমরা ফেইসবুক দিয়ে লগিন করি। এসব ক্ষেত্রেও সাবধান থাকতে হবে। ওয়েবসাইটের বা এপের সিকিউরিটি ভালো না হলে ফেইসবুক দিয়ে লগিন করা থেকে বিরত থাকুন।

ফেইসবুকে যেসকল গেইম খেলেন বা কুইজ খেলেন সেগুলে থেকেও ফিশিং/হ্যাকিং এর শিকার হতে পারেন। তাই অহেতুক কুইজ এবং বাজে এপ এ পারমিশন দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

আপনার পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করুন

আপনার বউ/ শালীর নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি পাসওয়ার্ড দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

পাসওয়ার্ডে নাম্বার, লেটার, বড় হাতের ছোট হাতের এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করুন। এমন পাসওয়ার্ড দিন যা সহজে কেউ আন্দাজ করতে না পারে।

 

আর যদি মনে করেন একাউন্ট হ্যাক হয়েই গেছে তবে যত জলদি পারুন রিকভার করা ট্রাই করুন। আপনার ব্যক্তিগত একাউন্ট দিয়ে কেউ যেন কোন অপকর্ম করতে না পারে।

Leave a Reply