সোশাল মিডিয়ায় কি শেয়ার করব আর কি করব না

আমি বেশিরভাগ সময় উপদেশমূলক লেখা লিখি বলে একটা বদনাম আছে। মেনে নেই এটা আমি।

আমাদের আশেপাশে সমস্যার অন্ত নাই। নিজের, পরিবারের … চাকুরির ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি চেষ্টা করি যদি কোন সমস্যার কথা উল্লেখ করি তবে তার একটা সম্ভাব্য সমধানও যেন সাথে দেয়া যায়।

সেই কথার সূত্র ধরেই দেখাল প্রচুর মানুষ তাদের পারিবারিক ঝামেলার কথা ফেইসবুকে উল্লেখ করেন। তার ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কতটা অসুখী তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

আপনাদের জন্য একটা ফ্যাক্ট, We really don’t give a Fuck about your problem. আপনি যদি আপনার পারিবারিক সমস্যা নিজে সল্ভ করতে না পারেন তবে আপনি একটা দুর্বল মানুষ। এর সাথের ফ্যাক্ট হল, আমরা দুর্বল মানুষ দেখতে পারিনা। মুখ মুখে (কমেন্ট) একটু উহ আহ করব ঠিকই কিন্তু আসলে আপনার ব্যাক্তিগত সমস্যার সমাধান আমাদের কাছে নাই।

***সমাধান (সম্ভাব্য)ঃ খুব কাছের বন্ধুকে ইনবক্সে জানান বা ফোন করে তার কাছে সাহায্য চান। ***

সোশাল মিডিয়ায় কি শেয়ার করব আর কি করব না 1

ঘোষনা দিয়ে ফেইসবুকে স্ত্রীর / জামাইয়ের পরিবারের সমস্যা, আপনাকে সমাজ এটা করতে দিচ্ছে না সেটা করতে দিচ্ছে না, আপনার আদর্শের সাথে যায় না … হেন তেন বুলি আওড়ানো থেকে নিরাপদ থাকেন এবং অন্যের কাছে নিজের ভ্যালু কমানো থেকে বিরত থাকেন।

সোজা কথা বলি, জীবনটা কোন ফুল শয্যা নয়। আপনার জন্য কেউ সব কিছু সাজিয়ে বসে থাকবে না। আপনি আসবেন আর পেয়ে যাবেন। সবাইকেই যুদ্ধ করতে হয়।

একটা উধাহরন দেই নিজের লাইফ থেকে, যখন প্রথম বাইক চালানো শিখি এবং রাস্তায় নামি, আমি ভেবেছিলাম এ আর এমন কঠিন কি কাজ। সবাই ট্রাফিক রুলস মানবে, সিগনাল মেনে চলবে, কেউ কারো সাথে ঠোকাঠুকি করবে না… এইত।

না… ঘটনা ভিন্ন, কেউই রুলস মানতে চায় না যদি না বাধ্য করা হয়। প্রয়োজনে তারা আরেক জনকে রুলস ভাংতে উতসাহ দেয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে বাধ্য করে।

ধরেন সিগনাল মেনে আমি দাঁড়িয়ে আছি বাইক নিয়ে। পিছন থেকে অন্যা বাইকাররা অবাক ভাবে তাঁকিয়ে থাকবে। রিকশাওয়ালারাও বলবে মামা আপ্নে সাইড কেটে বের হয়ে যান…। কি আজিব রে বাবা। আজিবের কিছু নাই আসলে। রাস্তায় নেমে আমি শিখেছি গালি একটা মাস্ট জিনিস । এইটা না জানলে কেউই আপনাকে সাইড দিবে না। রিকশওয়ালারা হর্নের বা বিপারের মানে বোঝে না। গালি ঠিকই বুঝতে পারে :)।

সোশাল মিডিয়ায় কি শেয়ার করব আর কি করব না 2

সোশাল মিডিয়া একটা অদ্ভুত জায়গা। এখানে আমরা আসলে কি করি?

আমরা ঘোষনা দেই, কই যাই, কি খাই, কার সাথে ঘুরি, কি করি… ইত্যাদি। আদতেই কি তার দরকার আছে?

আপনি আজকে ফাইভস্টারে গিয়ে একটা চেকইন দিলেন মানেই কি আপনি প্রতিদিন সেখানে যাবেন? একদিন প্লেন ভ্রমন করা মানেই কি আপনি কেউকেটা কেউ হয়ে গেলেন?

পারিবারিক অসুখিতার কথা বলা মানেই কি আপনার পরিবারের/শুশুর শাশুড়ির পরিবারে সবাই খারাপ? তাদের কোন ভালো গুন নেই?

আছে… আপনি খুজতে জানেন না। কিভাবে এডজাস্ট করেতে হয় তা শেখেন নাই।

ইচ্ছে করছিল বেশ কয়েকজনকে ট্যাগ করে দেই এই পোস্টে… 🙂 পরেই আবার ভাবলাম … কি দরকার? যার সোজা হবার সে এমনেই হবে। আর যার ঘোষনা দেবার সে প্রতি বেলাতেই ফেইসবুকে তার ব্যর্থতার কথা বলেই যাবে।

কোথাও একটা গবেষনার কথা পড়েছিলাম যারা বলেছিলঃ “সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত পারিবারিক ছবি, কথা, চেকইন ইত্যাদি দেয়া ব্যক্তিদের ৯০ ভাগই ব্যাক্তিগত জীবনে একাকি এবং ডিপ্রেশনে ভোগেন।

 

-এই লেখাটি লেখকের ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া।

Leave a Reply