বর্তমান মার্কেটে অনেকগুলো ক্রিপ্টো ওয়ালেট আছে। এদের মধ্যে Redotpay, Rizon, Coinbase Wallet, bitpay, Exodus ইত্যাদির বেশ নামডাক আছে।
আমি একটা দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রি-ল্যান্সিং এর সাথে জড়িত থাকার কারনে পেওনিয়ার ব্যবহার করেছি। এরপর ওয়াইজ বিজনেস ভিসা কার্ড এবং সবশেষ রেডট-পে এর ভার্চুয়াল ভিসা কার্ড ব্যবহার করেছি। এগুলো সবগুলোই আমাদের দেশের ব্যাংকিং সিস্টেম এর বাইরের কার্ড।
বাংলাদেশ থেকে একসময় ফরেন পেমেন্টে অনেক অসুবিধা থাকলেও, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর কারনে বর্তমানে এটি বেশ সহজ হয়ে এসেছে। আপনি শুধুমাত্র পাসপোর্ট এন্ডোর্স করেই ৩০০ ডলারের মধ্যে পেমেন্ট করে ফেলতে পারবেন।
তবে যারা পাসপোর্ট বাদে অনলাইন প্লাটফর্ম এর বিভিন্ন কাজে, গেইমিং বা ফেইসবুক এডের জন্য একটা কার্ড নিতে চান বাংলাদেশ থেকে, এই ক্রিপ্টো কার্ডগুলো তাদের জন্য একটা বিকল্প পদ্ধতি। আগে যেমন ১০ বা ২০ ডলারের পেমেন্ট করার জন্যও হাহাকার করা লাগতো এখন আর সেটা করা লাগছে না।
UU Wallet
আমার ব্যবহার করা সর্বশেষ কার্ড হচ্ছে UU Wallet এর ভার্চুয়াল এবং প্লাস্টিক ফিজিক্যাল কার্ড। রেডট-পে কার্ডের রিভিউ করার পর আমি UU Wallet সম্পর্কে জানতে পারি। তাদের মার্কেটিং টিম থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের কার্ড রিভিউ করার জন্য বলা হয়।
- একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া বেশ সহজ। UU Wallet এর ওয়েব সাইট এবং এপ দুইজায়গা থেকেই একাউণ্ট খুলতে পারবেন।
- স্মার্ট এনআইডি / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি দিয়ে একাউণ্ট খুলতে পারবেন।
- কার্ড নিতে গেলে আপনাকে পাসপোর্ট দিয়ে একাউন্টের KYC সম্পূর্ন করতে হবে। ভেরিফিকেশন বাদে কার্ড পাবেন না।
- ভার্চুয়াল কার্ডের জন্য ১০ ডলার খরচ করতে হবে। ফিজিক্যাল কার্ড দুই রকমের আছে একটা প্লাস্টিক আরেকটা মেটাল কার্ড। প্লাস্টিক কার্ডের জন্য ১০০ ডলার আর মেটাল কার্ডের জন্য ২০০ ডলার পেমেন্ট করতে হবে।
- ভার্চুয়াল কার্ড দিয়ে আর স্মার্টফোন দিয়ে আপনি গুগল পে'র মাধ্যমে আপনি পজে পেমেন্ট করতে পারবেন। ভার্চুয়াল কার্ড সাথে সাথে এক্টিভ হবার কথা থাকলেও আমাকে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগাযোগ করে এক্টিভ করতে হয়েছে। এই ব্যাপারে ইউইউ ওয়ালেটের আরো যত্নশীল হওয়া দরকার।
আমার রেফারেল থেকে একাউন্ট খুলে বোনাস পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
অথবা, রেফারেল কোড হিসেবেঃ ny9mtb ব্যবহার করুন

আমি প্লাস্টিক কার্ড হাতে পেয়েছি মাত্র চার দিনে। DHL এর মাধ্যমে আমার ঠিকানায় কার্ড পাঠানো হয়েছে। এপ থেকে এক্টিভ করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। যদিও আমি একটা মেটাল কার্ডের জন্য আবদার করেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে প্লাস্টিক কার্ডটি পাঠিয়েছে।
- রেডট-পে কার্ডের সাথে তুলনা করলে এপের দিক থেকে UU Wallet কিছুটা পিছিয়ে আছে। ডিজাইন এবং ফাংশনালিটি রেডট-পে তে অনেক বেশি।
- এই কার্ডে আপনি শুধুমাত্র ক্রিপ্টো চ্যানেলে লোড করতে পারবেন। প্রথমে UU Wallet এ লোড করতে হবে এবং এরপর সেখান থেকে কার্ডে ট্রান্সফার করতে পারবেন। অন্যদিকে রেডট-পে একাউন্টে টাকা থাকলে তা কার্ডে আলাদা করে লোড করতে হয় না। সেখান থেকেই খরচ করা যায়।
- UU Wallet লোড করার জন্য আপনার বাইন্যান্স বা অন্য ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে ট্রান্সফার করুন UU Wallet এর দেয়া চেইন এড্রেসে।
- রুপালি ব্যাংকের পজে পেমেন্ট করেছি কোন ঝামেলা বাদেই।
- রেডটপের সকল কাজ এপেই, কন্তু UU Wallet এ ওয়েব ইন্টারফেস থেকেও আপনি কিছু জিনিস পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ফাংশনালিটি ওয়েবসাইটে পাবেন না।

UU Wallet এর কার্ড দিয়ে আরেকটা পেমেন্ট করেছি AI এর সাবস্ক্রিপশন কেনার জন্য। সেখানেও স্মুথলি পেমেন্ট করা গেছে। পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে আমি কোন ধরণের সমস্যা পাইনি এখনও পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় কথা পেমেন্ট ডিক্লাইন চার্জ নেই।

তবে আমি আশা রাখি UU Wallet আর বেশি ক্রিপ্টো কারেন্সি এড করবে তাদের ওয়ালেটে। যারা USD তে পেমেন্ট করতে চান তাদের জন্য এটা আরেকটা অল্টারনেটিভ হতে পারে। তবে রেডট-পে বা রাইজন এর কাছাকাছি যেতে হলে UU Wallet কে আরো বেশ কাজ করতে হবে।
UU Wallet কোম্পানি এবং মানি ওয়ালেট হিসেবে লিগ্যালি লাইসেন্স নিয়েছে বেশ কয়েকটা জায়গায়। সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফিনান্সিয়াল লাইসেন্স আছে, কাজেই ধরে নেয়া যায় হুট করে কোম্পানি গায়েব হয়ে যাবে না।
ক্রিপ্টো কার্ড দিন দিন আরো জনপ্রিয় হচ্ছে এবং UU Wallet তার মধ্যে নতুন সংযোজন। আপনার যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে আমাকে কমেন্টে জানান।
0 Comments