বাংলাদেশে থাকার অনেকগুলো অসুবিধার একটা হচ্ছে অনলাইন প্রফেশনালরা টাকা বাদে অন্য কারেন্সির পেমেন্ট ঠিকমত করতে পারেন না। আপনি গেইম কেনেন আর হোস্টিং কেনেন, যাই করেন না কেন, এদেশের কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে গেলে সেই কার্ডকে পাসপোর্টের বিপরীতে এন্ডর্স করতে হয়। সেখানে বছরে আপনাকে ১২ হাজার ডলারের সম পরিমান টাকা খরচ করার অনুমতি দেয়া হয়।
এরপর আছে, একবারে অনলাইনে ৩০০ ডলারের বেশি মূল্যের কিছু কিনতে পারবেন না। সেজন্য আপনাকে আলাদা করে আবার অনুমতি নিতে হবে। বেশিরভাগ সময় এর জন্য যে কাগজপত্র চায় সেটা খুবই বিরক্তিকর। তাই প্লেনের টিকিট, কিংবা অন্য যে কোন সার্ভিস কিনতে গেলে যার মূল্য ৩০০ ডলারের বেশি - এরকম হলে দেশী কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা সমস্যা।
আমাদের এই সব সমস্যার সমাধানে বেশ কয়েকটা বিকল্প পদ্ধতি আছে। আমাদের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা লোকজন পেওনিয়ার, ওয়াইজ কার্ড, অন্যদেশের নামে পেপাল ইত্যাদি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ আবার ভার্চুয়াল রিলোডেড বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করেন।
তবে এগুলোতে টাকা লোড করার সমস্যাটা সবচেয়ে বড়। বিশ্বস্ততা কম এবং খরচও প্রচুর। RedotPay - ভার্চুয়াল কার্ড এগুলোর মাঝে নতুন সংযোজন।
RedotPay - একাউন্ট করলে ভার্চুয়াল ভিসা কার্ড পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করতে আপনার পাসপোর্ট এন্ডর্সমেন্টের দরকার নেই। টাকা আপনি ক্রিপ্টোতে বা অন্য ইন্টারন্যাশনাল কার্ড দিয়ে লোড করতে পারবেন।
রেডট-পে একাউন্ট করার জন্য আমার রেফারেল লিংক ব্যবহার করতে পারেনঃ https://url.hk/i/en/0p3hy
অথবা, রেফারেল কোডঃ 0p3hy
রেফারেল লিংক বা কোড ব্যবহার করলে একাউন্ট করার পর কার্ড নিলে, আপনি আমি দুজনেই ৫ ডলার করে বোনাস পাবো।

RedotPay - একাউন্ট করতে কি লাগবে?
- পিসি থেকে একাউন্ট করতে পারবেন না। আপনার এন্ড্রোয়েড বা আইফোনে প্লে-স্টোর বা এপ স্টোর থেকে এপ নামিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
- স্মার্ট এনআইডি বা পাসপোর্ট দিয়ে KYC ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এটা না করলে কার্ড অর্ডার করতে পারবেন না।
- কার্ড অর্ডার করতে ভার্চুয়াল কার্ডের জন্য ১০ ডলার আর প্লাস্টিক কার্ডের জন্য ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। আমি বুদ্ধি দেই, খুব বেশি দরকার না হলে ভার্চুয়াল কার্ড নিতে। অনেক সময় প্রমোশনাল অফারে এই কার্ড ৫ ডলারেও পাওয়া যায়।
- কার্ড নেয়ার জন্য আপনাকে RedotPay এর একাউন্টে টাকা লোড করতে হবে। এটা আরেকজন RedotPay একাউন্ট হোল্ডার করে দিতে পারে। অথবা Binance একাউন্ট থাকলে নিজেই করে নিতে পারেন।
- Binance থেকে করতে হলে আগে সেটার এপ নামিয়ে একটা Binance একাউন্ট করতে হবে। সেখানেও স্মার্ট এনআইডি বা পাসপোর্ট দিয়ে KYC ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর P2P বা Binance মার্কেট থেকে বিকাশ দিয়ে ডলার কিনে সেটা RedotPay তে নিয়ে আসতে পারবেন।
Binance হচ্ছে একটা ক্রিপ্টো কারেন্সি ওয়ালেট। এখানে অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা ক্রিপ্টো কারেন্সি কেনাবেচা করেন। কিন্তু Binance এর নিজের কোন কার্ড নেই। তাই লাভ হলে সবাই সেটা সেল করে দিয়ে কারেন্সি কনভার্ট করে ফেলে। আপনি Binance এর মার্কেটপ্লেসে এরকম অনেক সেলার পাবেন।
RedotPay আবার Binance এর ক্রিপ্টো ট্রান্সফার সাপোর্ট করে। তাই একটু ঘুরিয়ে হলেও আপনি সেখান থেকে বিকাশে ডলার কিনে নিজের RedotPay একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন।
তাই, বলা চলে RedotPay একটা ক্রিপ্টো কার্ড। আপনার ক্রিপ্টো কারেন্সি এই কার্ড দিয়ে ডলারে রুপান্তর করা যায়। পাসপোর্টে এন্ডর্স্মেন্টের ঝামেলা নাই, লিমিট অনেক বেশি। গুগল প্লে, এপল স্টোরে বা ৩০০ ডলারের বেশি পেমেন্ট নিশ্চিন্তে করতে পারবেন ইত্যাদি।
অল্প কিছু ঝামেলা বাদে অন্য কার্ডগুলো থেকে এটার এপ আর পেমেন্ট সিস্টেম আমার ভালো লেগেছে। একাউন্ট করতে ঝামেলাও কম। পেমেন্টের গ্রহনযোগ্যতাও আছে বেশিরভাগ জায়গাতে।
রেডটপে একাউন্ট বর্তমানে ইউএস ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দিচ্ছে। এই একাউন্ট দিয়ে সরাসরি আপনার রেডটপে একাউন্টে ডলার রিসিভ করতে পারবেন। রেডটপে থেকে আপনার বিকাশ বা দেশের ব্যাংক একাউন্টেও টাকা পাঠাতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য হবে।
0 Comments