বাংলাদেশে 3G নেটওয়ার্ক এর বর্তমান হালচাল…

খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে বাংলাদেশে চালু হলো 3G (তৃতীয় প্রজম্মের নেটওয়ার্ক ) সেবা । তবে চালু হলেও সবাই সেই সুবিধাটা নিতে পারেনি । চারটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, বাংলালিংক এবং রবি গত ৮ই সেপ্টেম্বর থ্রিজি নিলামে অংশগ্রহণ করে তাদের থ্রিজি সেবার লাইসেন্স গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি অপারেটর টেলিটক প্রায় ১ বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে থ্রিজির সেবা দেওয়ার জন্য বিনা মূল্যে লাইসেন্স পায় । তবে বাংলাদেশের আর একটি মোবাইল অপারেটর সিটিসেল কোম্পানি এই নিলামে অংশগ্রহণ  করেনি ।

  3G নেটওয়ার্ক এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Third Generation নেটওয়ার্ক অথ্যাৎ বাংলায় বলতে গেলে তৃতীয় প্রজম্মের নেটওয়ার্ক । তৃতীয় প্রজম্মের (থ্রিজি) সেবা হলো দ্রুতগতির মোবাইল যোগাযোগ সেবা । এর মাধ্যমে সর্বনিম্ম ২০০ কিলোবাইট/সেকেন্ড গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করা যায় । থ্রিজির পর ৩.৫জি বা ৩.৭৫জি এর মাধ্যমে মেগাবাইট/সেকেন্ড গতিতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা দেওয়া হয় । থ্রিজির মাধ্যমে ওয়্যারলেস ভয়েস কল, মোবাইল ইন্টারনেট সেবা, ফিক্সড ইন্তেনেত সেবা, ভিডিও কল এবং মোবাইল টিভি দেখা, অনলাইন রেডিও ইত্যাদি সেবা পাওয়া যাবে ।

থ্রিজি নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ১৯৯২ সালে । সর্বপ্রথম প্রাক-বাণিজ্যিক থ্রিজি সেবা চালু করে জাপানের মোবাইল অপারেটর এনটিটি ডকোমো ১৯৯৮ সালে যার নামকরণ করা হয়েছিল ফোমা । ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিশ্বে প্রথম বাণিজ্যিক থ্রিজি সেবাও চালু করে এনটিটি ডকোমো । এরপর ব্রিটিশ টেলিকম  প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাঙ্কস’ ইউরোপে সর্বপ্রথম থ্রিজি চালু করে এবং নরওয়ের ‘টেলিনর গ্রুপ’ প্রথম ইউরোপে ২০০১ সালে গ্রাহকদের কোনো রকম অতিরিক্ত খরচ ছাড়া থ্রিজি সেবা দেয় । সিডিমএ ভিত্তিক থ্রিজি সেবা সর্বপ্রথম  চালু করে দক্ষিণ কোরিয়ান ‘এসকে’ টেলিকম ।

Generation Speed Technology                           Features
2G 9.6/14.4 Kbps   TDMA, CDMA 2G Capabilities are achieved by allowing multiple users on a single channel via multiplexing.2G enabled mobile phones can be used for data along with voice communication.
3G 3.1Mbps(peak)500-700 Kbps CDMA 2000(1XRTT, EVDO), UMTS, EDGE 3G provides amazing internet browsing speeds. Open the door to a whole bag of opportunities with video calls, video streaming etc. In 3G, universal  access portability across different device types are made possible.(Telephone & PDA’s)
3.5G 14.4  Mbps(peak)1-3 Mbps       HSPA 3.5G support even higher speeds and enhances higher data needs.
4G 100-300 Mbps (peak)3-5Mbps    Wi MAX , LTE Speeds for 4G are increased to lighting fast In order to keep up with data access demand used by various services. It also supports HD streaming. HD phones can be fully utilized on a 4G network

অনেক পরে হলেও বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাবহারকারীরা থ্রিজির পরিপূর্ণ সেবা পেতে যাচ্ছে । রাজধানীর একটি হোটেলে বিটিআরসি আয়োজিত নিলামে অংশগ্রহণ করে দেশের ৪ টি মোবাইল অপারেটর । দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেল জামানতের টাকা জমা দিতে না পারায় তারা নিলামে অংশ নেয়নি । থ্রিজি নিলামে অংশগ্রহণ করার জন্য অপারেটররা বেশ কিছু সুবিধা সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নেয় । এগুলো হলো সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত করের পরিমাণ কমানো, থ্রিজির তরঙ্গ মূল্যের ওপর ১৫ থেকে ৭ শতাংশ নামিয়ে আনা । থ্রিজি নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে অংশ নিতে প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের মূল্য রাখা হয়ছে ৳.১,৫৫৯,৩৩৬,২৫৩ । অপারেটরদের সর্বনিম্ম ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিতে আবেদন ফি ৳.৫ লাখ, লাইসেন্স ফি ৳.১০ কোটি এবং বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৳.৫ কোটি পরিশোধ করতে হয় । অপারেটরদের মোট তরঙ্গ ফি এর ৬০% নিলামের পর কার্যদিবসের ৩০ দিনে এবং বাকী ৪০% পরিশদ করতে হবে পরবর্তী ১৮০ দিনে । লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ১৫ বছরের জন্য । প্রতি ৫ বছর পর টা নবায়ন করা যাবে । এই খাত থেকে আয়ের ৫.৫% বিটিআরসিতে জমা দিতে হবে । ইতিমধ্যে থ্রিজি লাইসেন্স প্রাপ্ত   মোবাইল কোম্পানিগুলো ঢাকার আশপাশের এরিয়াগুলোতে বিশেষকরে গুলশান, বনানী, বারিধারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কাঁটাবন, ধানমন্ডি ইত্যাদি জায়গায় গ্রাহকদের জন্য চমকপ্রদ অফারের ঝুলি নিয়ে তাদের থ্রিজি সেবার কার্যক্রম চালু করেছে ।

(তথ্যসুত্র – কম্পিউটার বিচিত্রা)

Leave a Reply